করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কেরালা এখন সব জায়গায় প্রশংসা পাচ্ছে।

admin

করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কেরালা এখন সব জায়গায় প্রশংসা পাচ্ছে। ভারতের ঘনবসতিপূর্ণ রাজ্যের মধ্যে একটি কেরালা। সেখানকার কাসারগড় জেলায় রাজ্যের প্রায় অর্ধেক করোনায় আক্রান্ত রোগী ছিল। অথচ কী অদ্ভুতভাবে সেই সংকট সামাল দিয়েছে জেলাটি। একজনও মারা যায়নি জেলায়। সামাল দেওয়ার সেই অনুকরণীয় কাহিনি উঠে এসেছে ভারতের এনডিটিভির এক অনলাইন প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কেরালার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ৪৪ শতাংশই কাসারগড় জেলার। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, পুরো ভারতের তুলনায় এ জেলায় করোনা সংক্রমণমুক্ত হওয়ার হার তিন গুণ বেশি। এখন পর্যন্ত দেশটিতে করোনায় আক্রান্তের অন্যতম হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত কেরালায় সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক কম। অথচ বাকি ভারতে সংখ্যাটা ক্রমেই বাড়ছে। এখানে এখন পর্যন্ত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি সামগ্রী পাওয়ার জন্য কেরালার পুলিশের পক্ষ থেকে দুটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর চালু করা হয়েছে।

সুপারস্টার মোহনলালের শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যায়, ঘরে ঘরে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য পৌঁছে দিচ্ছে পুলিশ। যেখানে করোনা সংক্রমণের খোঁজ পেয়েছে, সেখানেই গেছে পুলিশ। কাসারগড়ের সাতটি অঞ্চলে পুলিশের পক্ষ থেকে হোম ডেলিভারি করা হয়েছে। যে সাতটি জোন বা অঞ্চলে ভাগ করে আইসোলেশন করা হয়েছে, সেখানে বাইরে যাওয়া–আসা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পুলিশের এক কর্মকর্তা এনডিটিভিকে জানান, আইসোলেশন করা অঞ্চল থেকে কোনো ব্যক্তি বাড়ির বাইরে বেরোতে পারবেন না।

চলতি মাসের শুরুর দিকে কাসারগড়ে কয়েক দিনের মধ্যেই কোভিড–১৯–এর চিকিৎসায় হাসপাতাল তৈরি করা হয় এবং রাজ্যের রাজধানী তিরুবনান্তপুরম থেকে চিকিৎসকদের একটি দলকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়।

রাজ্য পুলিশের প্রধান বিজয় শাখারে এনডিটিভিকে বলেছেন, ‘চলতি মাসের শেষ নাগাদ রাজ্যে করোনা সংক্রমণ শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি। করোনা বিস্তার ঠেকাতে লকডাউনের সময় যাতে খুব প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে না বেরোন, তার জন্য সব রকম চেষ্টা করেছে পুলিশ। আমরা ফল দেখতে পাচ্ছি।’

কাসারগড়ের ১৬৬ জন আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৬১ জন। সেখানে আরও দুই সপ্তাহ লকডাউন বাড়াতে চলেছে জেলা প্রশাসন।

জেলায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা তিন হাজার ব্যক্তিকে আইসোলেশন রাখা হয়েছে। জেলায় যাঁরা বিদেশ থেকে এসেছেন, সেই এক হাজারজন এই তালিকার বাইরে রয়েছেন এবং তাঁদের ওপর কঠোরভাবে নজর রাখা হচ্ছে।

ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে জেলার সাতটি জোন বা অঞ্চলে। কোনো রকম এদিক-ওদিক যাওয়া বা বাইরে বেরোনোর দিকে নজর রাখছে পুলিশের টহলদারি দল এবং তাদের অ্যাপ।

বিজয় শাখারে বলেন, ‘অ্যাপের মাধ্যমে আইলোশনে থাকা সব ব্যক্তির ওপর নজর রাখছি। আমরা কল রেকর্ড ব্যবহার করছি এবং আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি ইন্টারনেট প্রটোকলের সাহায্য নজর রাখছি, যাতে পুরোপুরিভাবে লকডাউন মানা হয়। শুধু এই জেলাতেই আমরা ১৪ হাজার মানুষের তথ্যের ওপর কাজ করছি।’

দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ কাসারগড়ের গ্রামীণ এলাকাগুলো সিল করে দেওয়া হয়। আইসোলেশনে থাকা ব্যক্তিদের যাতে বাইরে বেরোতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকদের ফোন কল রাখা হয়েছে অন্যান্য পরিষেবার মতোই। ২৩ মার্চ থেকে এ রকম ৯ হাজার টেলিমেডিসিন কলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পঞ্চাশের বেশি বয়সী ব্যক্তিদের জন্য এই সুবিধা রাখা হয়েছে।

কাসারগড়ের জেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রামদাস এভি বলেন, ‘আমরা কাসারগড়ে গোষ্ঠী ধরে ধরে পরীক্ষা শুরু করেছি। যাঁদের করোনার মতো লক্ষণ রয়েছে, বিভিন্ন জোন বা অঞ্চল থেকে প্রায় এ রকম লোকজনের প্রায় ১০০টি নমুনা সংগ্রহ করেছি। ১০০টি নমুনার ফলই নেগেটিভ এসেছে। এই মুহূর্তে কোনো গোষ্ঠী সংক্রমণের প্রমাণ নেই। জেলাজুড়ে দুই হাজারের ওপর নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।’

রামদাস জানান, কেরালায় করোনা সংক্রমণমুক্ত হওয়ার হার ৩৮ শতাংশ। কিন্তু পুরো ভারতে এ হার মাত্র ১১ দশমিক ৪ শতাংশ।

Next Post

ভিডিও কলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নিজের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ভিডিও কল করে নেতাকর্মী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  এ সময় তিনি করোনাভাইরাসের সংক্রমণের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকারও পরামর্শ দেন। আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সভানেত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৫টায় দলের যুগ্ম […]