কিডনির সমস্যা ও সতর্কতা

admin

প্রবীণেরাই শুধু করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকিতে নেই। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদ্‌রোগ ও কিডনি রোগীরাও এই সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছেন। এ ধরনের রোগীদের ক্ষেত্রে কোভিড-১৯ রোগ জটিল আকার ধারণ করতে পারে। তাই উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদ্‌রোগীদের মতো ডায়াবেটিস ও কিডনির সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদেরও সতর্ক হতে হবে।

দীর্ঘমেয়াদি কিডনির সমস্যা বা ক্রনিক কিডনি ডিজিজে আক্রান্ত রোগীরা নিয়মিত ওষুধ সেবনের পাশাপাশি সুনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন করবেন। ডায়াবেটিস থাকলে সুনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, ওষুধ ও ব্যায়ামের মাধ্যমে রক্তের সুগার বা শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখবেন। কোভিড-১৯ প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্বের নিয়মকানুন ও স্বাস্থ্যবিধি অবশ্যই মেনে চলবেন। ঘরেই নিয়মিত ব্যায়াম করবেন। জরুরি প্রয়োজনে যদি বাইরে যেতেই হয়, তাহলে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ বন্ধ করা চলবে না এ সময়।

যেসব কিডনি রোগী ইমিউনোসাপ্রেসেন্ট ওষুধ ও স্টেরয়েড ব্যবহার করছেন, যাঁদের কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, তাঁদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কারণ, এ ধরনের রোগীর রোগ প্রতিরোধ–ক্ষমতা কম থাকে। এ ক্ষেত্রে যা করতে হবে—

• নিয়মিত মাস্ক ব্যবহার করা, সামাজিক দূরত্বের নিয়মকানুন মেনে চলা, বারবার হাত ধোয়া

• করোনা সংক্রমিত রোগী বা সন্দেহভাজন রোগীর সংস্পর্শে না যাওয়া

• সম্ভব হলে আলাদা ঘর বা আলাদা বিছানা ব্যবহার করা

• নিজের নিত্যব্যবহার্য জিনিস আলাদা রাখা

• জ্বর-কাশি, শ্বাসকষ্ট হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া

• রোগীর পরিচর্যাকারী ও সেবাদানকারীর ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং

• গণপরিবহন না ব্যবহার করা।

যাঁরা ডায়ালাইসিস নিচ্ছেন, তাঁদের চিকিৎসক নির্দেশিত নিয়মে ডায়ালাইসিস অব্যাহত রাখতে হবে। যেকোনো অসুস্থতা, জ্বর-কাশি, গলাব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসককে দ্রুত অবহিত করতে হবে এবং পরীক্ষা করাতে হবে। একই সঙ্গে ডায়ালাইসিস সেন্টারকেও পূর্বাভাস দিতে হবে, যেন তারা সন্দেহভাজন করোনা রোগীর জন্য সেন্টারটিতে পূর্বপ্রস্তুতি নিতে পারে।

অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ঘুমের পরিমাণ কম হলে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়ে। যেসব কিডনি রোগী প্যানিক ডিজঅর্ডার, ডিপ্রেসিভ ইলনেস কিংবা ইনসমনিয়া বা নিদ্রাহীনতায় ভুগছেন, তাঁদের জন্য বর্তমান পরিস্থিতিতে সংবাদমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার খবর বা পোস্ট এড়ানোই উত্তম।

কনসালট্যান্ট নেফ্রোলজি, ইউনাইটেড হসপিটাল লিমিটেড

Next Post

মোনালিসা

মোনালিসা–চোরের জবানবন্দি ১৯১১ সালের ১১ আগস্ট প্যারিসের ল্যুভ জাদুঘরের গ্যালারি থেকে গায়েব হয়ে গেল লেওনার্দো দা ভিঞ্চির আঁকা ‘মোনালিসা’। সেদিন কেউ জানলই না। মোনালিসার একপাশে কোরাজ্জিওর আঁকা ‘মিস্টিক্যাল ম্যারেজ’ আর পাশে টিশ্যানের ‘অ্যালেগরি অব আলফঁসো দা অ্যাভালস’। পরদিন ১২ আগস্ট ১৯১১ একজন ফরাসি শিল্পী লুই বেরু নিজের আঁকার প্রয়োজনে জাদুঘরের […]